অশুভকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাল বিশ্ব
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:২৫:১৮,অপরাহ্ন ০২ জানুয়ারি ২০১৯ | সংবাদটি ৫২৫ বার পঠিত
আতশবাজি, কনসার্ট, উপাসনা আর রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০১৯ সাল। ২০১৮ সাল এখন স্মৃতি। তবে পুরোটাই সুখস্মৃতি নয়। বছরজুড়ে বহু ক্ষেত্রে বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। রাজনীতি, বাণিজ্য, জোট কিংবা ধর্ম প্রায় সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচকতা ছাপ ফেলেছে। সেসব কিছু পেছনে ফেলে এখন সামনে তাকানোর সময়। ২০১৯ সালকে সে কারণেই এত উৎসাহ নিয়ে বরণ করে নেওয়া। এই উৎসব শুধু সময়কে স্বাগত জানানো নয়, বরং নতুন আশা আর সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ারও স্বপ্ন।
বর্ষবরণের সবচেয়ে বড় আয়োজনটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। প্রতিবছরের মতো এবারও টাইমস স্কয়ারে নানামুখী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যদিও বৃষ্টির কারণে অনেক আয়োজনই পরিকল্পনা অনুসারে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই কনসার্ট করেছেন গায়িকা ও নায়িকা ক্রিস্টিনা অ্যাগুইলেরা। তুষার ধবল পোশাকে ক্রিস্টিনার পারফরম্যান্স দর্শকদের বৃষ্টির ভেজা ভুলিয়ে দেয়।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর কোপাকাবানা সৈকতে বছর শুরুর মুহূর্তটিকে উদ্যাপন করতে জড়ো হয়েছিল ২০ লাখ মানুষ। সৈকতে ১৪ মিনিটের আতশবাজির প্রদর্শনী হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক জাইর বোলসোনারো। সোমবার প্রায় সারা রাতই রাজধানী ব্রাসিলিয়ার রাস্তায় নানা আয়োজনে সময় পার করে মানুষ।
লন্ডনে নতুন বছর শুরু হয় বিগ বেনের ঘণ্টাধ্বনিতে। ব্রিটেনের বহু বছরের ঐতিহ্য এটি। যদিও সংস্কারকাজের জন্য ২০০ কেজি ওজনের এই ঘড়ি আপাতত বন্ধ। বিশেষ ব্যবস্থায় ঘণ্টা বাজানো হয়েছে। ১৮৫৯ সাল থেকেই ব্রিটিশদের সময় দিয়ে আসছে এ ঘড়ি।
ফ্রান্সের বছর শুরু হয়েছে আনন্দ-বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ সরকারের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ নানামুখী সংস্কার পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে উৎসব করার আহ্বান জানায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর এই বিক্ষোভের ভয়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা হাতে নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব কিছুর মধ্যেই নতুন বছরের ঐতিহ্যবাহী ভাষণ দেন ম্যাখোঁ।
জার্মানির বার্লিনের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সোমবার রাতে হাজির হয় কয়েক লাখ মানুষ। তাদের নিরাপত্তার জন্য অন্তত এক হাজার ৩০০ নিরাপত্তাকর্মীকে মোতায়েন করা হয়। তবে নির্ধারিত ঘেরাটোপের মধ্যে আতশবাজি, বোতল বা বড় ব্যাগ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
ভ্যাটিক্যান সিটিতে পোপ ফ্রান্সিস সবার প্রতি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, তিনি পোপ হওয়ার পর গত বছরটিই ছিল তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়। ভ্যাটিকানে গতকাল বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।
আতশবাজি ফোটানোর মধ্যে দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় আতশবাজির বিশেষ আয়োজন রাখা হয়। এটি দেখতে দুই হাজার ৭১৬ ফুট উঁচু ভবনের নিচে কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়। এ ছাড়া গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে নাম লেখানোর জন্য বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয় রাস আল-খাইমায়।
থাইল্যান্ডে নতুন বছর শুধু দেশটির নাগরিকরাই উদ্যাপন করে না। সারা বিশ্ব থেকে এ সময় পর্যটকরা জড়ো হয় সেখানে। এসব পর্যটকের জন্য দেশজুড়ে আতশবাজি, পার্টি আর কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
বিশ্বের নতুন বছরকে সর্বপ্রথম স্বাগত জানানো হয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতিতে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নানামুখী দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশটি এবার নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে নীরবতায়। কিরিবাতিতে তিনটি টাইমজোন পড়েছে। এর একটিতে মধ্যরাত আসে লন্ডনের মধ্যরাতের ১৪ ঘণ্টা আগে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে খাবার পানির প্রাপ্যতা কমে এসেছে। আগামী বর্ষবরণের সময় পর্যন্ত এই দ্বীপরাষ্ট্র টিকে থাকবে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। যে কারণে ধর্মীয় উপাসনা এবং নিভৃতে কিছু উদ্যাপন দিয়েই নতুন বছরকে এবার স্বাগত জানিয়েছে তারা।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্ষবরণ বরাবরই উচ্ছ্বাসের। এ উপলক্ষে সিডনির আতশবাজি প্রদর্শনী দেখতে জড়ো হয় লাখ লাখ মানুষ। এবার এই প্রদর্শনীতে ৮.৫ টন আতশবাজি ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্র : এপি, এএফপি।
