জকিগঞ্জে আহাদ সহ ৫ মৎস্য খামারীর দুই কোটি টাকার মাছ বন্যায় ভেসে গেছে
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:১০:১৮,অপরাহ্ন ২৬ মে ২০২২ | সংবাদটি ৪৫৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এবং অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় ভেসে গেছে ৫ খামারীর দুই কোটি টাকার মাছ। ফলে সর্বস্ব হারিয়ে চরম অভাব অনটন আর দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন মৎস্য খামারীরা। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামারীরা সরকারের কাছে প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।
জকিগঞ্জের মাদারখাল গ্রামের মৎস্য খামারী আব্দুল আহাদ, কাবির আহমদ, খছরুল ইসলাম, নূর আহমদ ও নাজির আহমদের ফিসারী ডুবে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ষাইটসৌলা, তান্ত্রিকোনা মৌজা, উত্তর খলাছড়ার কয়েকটি মৎস্য খামার থেকে ছোট বড় সব মাছ ভেসে যায়। আব্দুল আহাদ জানান অনেকের কাছে থেকে ধার কর্জ আর নিজের কষ্টার্জিত কিছু সঞ্চয় দিয়ে ৫০ একর জায়গা খাজনা এনে ছোট বড় মিলে ৫ টি ফিসারি করেছিলাম। কিন্তু ভয়াবহ বন্যায় সব মাছ ভেসে যায়। এতে তাঁর প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বলেন জায়গা খাজনা এনে দীর্ঘ ৭ বছর থেকে মাছ চাষ করলেও লাভ তেমন হয়নি। এ বছর কিছুটা অগ্রগতির দিকে যাওয়ার আগেই সব কিছু তছনছ হয়ে গেল বন্যায়।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয় এই প্রতিবেদককে বর্ণনা দিতে গিয়ে তাঁর কান্না আর আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বলেন কয়েক লক্ষ তেলাপিয়া, রুই, মৃগেল সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ভেসে যায়।
আকস্মিক এই বন্যা চলে আসায় তাঁর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা খুবই কষ্টকর।
ক্ষতিগ্রস্ত কাবির, খছরুল, নুূর, নাজির জানান বন্যা আমাদের নিঃস্ব করেছে। সীমাহীন কষ্টের টাকা আর ধার কর্জের টাকার অর্জিত খামার এগিয়ে যাওয়ার আগ মূহুর্তে আমাদের স্বপ্ন পানিতে ভেসে গেছে। তারা জানান প্রতিটি মৎস্য খামার অনেক টাকা দিয়ে অন্যের কাছ থেকে ভাড়া দিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। কিন্তু মারাত্মক বন্যায় ছোট বড় সব মাছ ভেসে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু তাহের চৌধুরী বলেন বন্যায় ৬ হাজার ৩ শ এর উপরে পুকুর ডুবে মাছ ভেসে গেছে। প্রাথমিক হিসেবে সাড়ে ৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপরোক্ত তথ্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
আহাদ সহ ক্ষতিগ্রস্ত খামারী অনেকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রণোদনা বরাদ্ধ হলে অবশ্যই তাদের দেওয়া হবে।
