ভোট উৎসবের জন্য তৈরি ভারত
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:১৬:৫১,অপরাহ্ন ১১ মার্চ ২০১৯ | সংবাদটি ৪৩০ বার পঠিত
তাজ উদ্দিন, গুয়াহাটি: ভারতে সংসদীয় নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। ৫৪৩ আসন বিশিষ্ট লোকসভায় মোট সাতটি দফায় ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হবে। রবিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সময়সুচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেয়। ১১ এপ্রিল প্রথম দফায় ভোট হবে। সপ্তম তথা অন্তিম দফার ভোট ১৯ মে। আর, মে মাসের ২৩ তারিখ ভোট গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন অর্থাৎ ই ভি এম ব্যবহার করে ভোট নেওয়া হবে। তাই, একদিনেই সব ফলাফল বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যেভাবে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল এবার সেটা হচ্ছে না। ভোটাররা তথাকথিত আচ্ছে দিনের ভাল মন্দ জেনে গেছেন। বিমুদ্রাকরণের মাধ্যমে মোদি সরকার হঠাৎ করে ১০০০ এবং ৫০০ টাকার নোট বাতিল করে গোটা দেশের মানুষকে হয়রানির মুখে ঠেলে দিয়েছিল। গরুকে সুরক্ষা দেওয়ার নাম করে মুসলিম ও দলিত হত্যার অনেক ঘটনা এই সরকারের আমলে ঘটেছে। রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার নামে আর্থিক হেরফের ঘটানো নিয়েও তোলপাড় চলছে। ললিত মোদি, বিজয় মালিয়া, নীরব মোদি, মেহুল চমস্কির মতো ধনকুবেররা দেশের সম্পত্তির বিশাল অংশ নিজেদের কব্জায় নিয়ে দেশ থেকে ফেরার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও মোদি সরকার কোনও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়। বিদেশ ভ্রমণে প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করেছেন বলেও বিরোধীদের অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নতি কিংবা মেইক ইন ইন্ডিয়া সহ দেশে বিভিন্ন উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিয়েও বিরোধীদের সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বিদায়ী সরকার।
কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? নরেন্দ্র মোদি আবার, নাকি অন্য কেউ? বিজেপি কি তার জোট নিয়ে মসনদে থাকবে? নাকি ক্ষমতায় আসবে বিরোধী জোট? সেটা জানার জন্য ভোট গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এখন ভোট উৎসবের এদিক ওদিক খবর নেওয়া যাক এবার ৯০ কোটি ভারতীয় জনগণ ভোট প্রদান করবেন। এর মধ্যে ১৮-১৯ বছর বয়সের ভোটার হলেন দেড় কোটি।
ভোট গ্রহণের জন্য ১০ লক্ষ ভোট গ্রহণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাঁচ বছর আগের (২০১৪) নির্বাচনে মোট ৯ লক্ষ ভোটকেন্দ্র ছিল।
গত নির্বাচন হয়েছিল নয়টি পর্বে। এবার দেশের ৫৪৩ টি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য ভোট হচ্ছে সাত পর্বে। ১১ এপ্রিল প্রথম পর্বের ভোট। বাকি পর্বগুলি হল ১৮ এপ্রিল, ২৩ এপ্রিল, ২৯ এপ্রিল, ৬ মে, ১২ মে, ১৯ মে। ভোট গণনা ২৩ মে। আসামে ভোট হবে প্রথম তিন দফায়। এর মধ্যে করিমগঞ্জ ও শিলচরে হবে ১৮ এপ্রিল। গুয়াহাটিতে ২৩ এপ্রিল।
আসামে প্রথম তিন পর্বে হবে ভোট। প্রথম দফায় ৫, দ্বিতীয় দফায় আরও ৫ এবং ২৩ এপ্রিল তৃতীয় দফায় অবশিষ্ট চারটি কেন্দ্রে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে সাতটি পর্বেই ভোট নেওয়া হবে।
এবার ভিভিপ্যাট ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ, আপনি কাকে ভোট দিলেন সেটা প্রিন্ট রেকর্ড হিসেবেও থাকবে। ই ভি এম হ্যাকিং নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ভিভিপ্যাটের স্লিপগুলি গুণে পাওয়া যাবে সঠিক হিসাব। এজন্য মোট ১৭ লক্ষ ৪০ হাজার ভিভিপ্যাট ব্যবহার করা হবে।
প্রত্যেক প্রার্থীকে তাদের সোসিয়েল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের তথ্যাদিও জানাতে হবে। নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব দেওয়া বাধ্যতামূলক।
নির্বাচনী আচরণবিধি বা মডেল কোড অব কন্ডাক্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দিন অর্থাৎ ১০ মার্চ থেকে শুরু হয়ে গেল। ফলে গণনা শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত নতুন কোনও প্রকল্প ঘোষণা, শিলান্যাস ইত্যাদি করা যাবে না।
রাত দশটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত মাইক বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভোটের জন্য ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আই পি এল) ক্রিকেটের ক্রীড়াসুচিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। ভারতের বাইরে অন্য কোথাও দেশে আই পি এলের কিছু ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

