সিলেটে ‘মেয়েকে’ নদীতে নিক্ষেপ, ‘মা’ আটক
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৩৫:৩১,অপরাহ্ন ০৫ জুলাই ২০১৯ | সংবাদটি ৫৭৯ বার পঠিত

সিলেট সদর উপজেলার কুমারগাঁওয়ে ব্রিজের উপর থেকে এক শিশুকে সুরমা নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন সৎমা। এ ঘটনায় সালমা বেগম নামের ওই নারীকে জনতার সহযোগিতায় আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক সালমা বেগম (২৮) মহানগরীর জালালাবাদ থানার ফতেহপুর গ্রামের জিয়াউল হকের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে জালালাবাদ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে সতীনের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মাহাকে নিয়ে কুমারগাঁওয়ের সুরমা ব্রিজে আসেন সালমা বেগম। পরে ব্রিজের উপর থেকে তাকে নদীতে ফেলে দেয়।
ব্রিজ থেকে শিশু ফেলে দেয়ার দৃশ্য দেখতে পেয়ে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে শিশুর পুরো পরিচয় পাওয়া না গেলেও শিশুটি ওই মহিলার বোনের ছেলে এবং বর্তমানে শিশুটি তারই তত্ত্বাবধানে ছিলো বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সালমার মামাতো বোন রাজনা বেগমের সাথে বিয়ে হয় ফতেহপুর গ্রামের জিয়াউল হকের। বনিবনা না হওয়ায় তাদের ডিভোর্স হয়। ওই দম্পত্তির সন্তান মাহা। রাজনাকে ডিভোর্সের পর সালমাকে বিয়ে করেন জিয়াউল হক। সালমা বেগমও দুই বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের জননী। মাহাও এই দম্পত্তির সাথে থাকতেন।
শুক্রবার নিজের সন্তানকে বাড়িতে রেখে সতীনের সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি রওয়ানা দেন সালমা। এরপর সেতুতে উঠে মেয়েটিকে নদীতে ফেলে দেন।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াকিল উদ্দিন আহমদ বলেন, একজন মহিলা একটি শিশুকে ব্রিজের উপর থেকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। এ ঘটনায় মহিলাকে আটক করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে শিশুটি ওই মহিলার বোনের ছেলে বলে জেনেছি। ঘটনাস্থলে ডুবুরি দল উপস্থিত হয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি। ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করলেও বিকেল ৬টা পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
