আকাশে রহস্যময় আগুনের গোলা, হতভম্ব পাইলট!
প্রকাশিত হয়েছে : ২:১০:৫৯,অপরাহ্ন ০৯ ডিসেম্বর ২০১৬ | সংবাদটি ১৫১৯ বার পঠিত
কলকাতা থেকে উত্তর-পশ্চিমে বারাণসীর আকাশে জেট এয়ারওয়েজের পাইলট তখন ৩৬ হাজার ফুট উপরে। দিল্লি থেকে ব্যাংকক যাচ্ছিল বিমানটি। সময় তখন রাত ১টা। আচমকা বিমানের পাইলট দেখতে পেলেন শূন্যে ভাসছে আগুনের গোলা।
আগুনের গোলা দেখেই কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-এ জানালেন পাইলট। চোখের ভুলও তো হতে পারে! কিন্তু জেটের ওই পাইলটের কাছ থেকে বার্তা পাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে পরপর দু’টি বিদেশি বিমানের পাইলটও একই বার্তা পাঠান।
তারাও তখন বারাণসীর আকাশেই এবং তাদেরও অবস্থান তখন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার ফুট উঁচুতে। একটি বিমান পশ্চিম এশিয়া থেকে উড়ে যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার দিকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপের দিকে যাচ্ছিল অন্য বিমানটি।
এক এটিসি অফিসার জানান, ‘প্রথমেই আমাদের মনে হয়েছিল, আকাশে কোনো বিমানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ হলে আগুনের এ রকম গোলা দেখা যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় খোঁজ।’ ওই সময়ে বারাণসীর আকাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া সব বিমানের খোঁজ নিতে শুরু করেন এটিসি অফিসারেরা। কিন্তু তেমন কোনো দুর্ঘটনার খবর মেলেনি।
এদিকে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই তিন পাইলট ঠিক কী দেখেছিলেন, ছবি না দেখে সেই সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা কঠিন। অনেক সময় আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত উল্কা ছুটে যায়। উল্কা একটু বড় মাপের হলে তা বায়ুমণ্ডলে ঢোকার পরে ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে। তখন সেটিকে আগুনের গোলার মতোই দেখায়।
আর উল্কাপিণ্ড যত বড় হবে, আগুনের গোলার আকারও তত বড় হবে। এবং সে-ক্ষেত্রে তার অবশিষ্ট অংশ এসে পড়বে মাটিতে। ২০১৩-র ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছিল বলে জানাচ্ছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এবার বারাণসী বা তার আশপাশের আকাশে তেমন কোনো উল্কাপাতের কথা জানা যায়নি।
তবে সব ক্ষেত্রেই যে উল্কার অবশেষ মাটি পর্যন্ত এসে পৌঁছবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। উল্কাখণ্ডের আকার ছোট হলে তা আকাশেই পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে, বলছেন এক জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
সাধারণত উল্কাবৃষ্টি হলে তার কথা আগেই অঙ্ক কষে বার করে নিতে পারেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কোনো ছোট উল্কাখণ্ড আচমকা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসবে কি না, তা জানা যায় না।
বারাণসীর ঘটনা নিয়ে কলকাতা থেকে দিল্লিতে বিমান মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ওই ঘটনার ব্যাপারে তাদের কাছ থেকে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি।

