ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১০, ভাংচুর, কলেজ বন্ধ ঘোষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৩৫:৩৬,অপরাহ্ন ৩১ জুলাই ২০১৬ | সংবাদটি ২০৭২ বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: জকিগঞ্জ সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। ভাংচুর করা হয়েছে দরজা-জানালা। কর্তৃপক্ষ ৪দিনের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ বাধে ফারুক গ্রুপ ও সালাম গ্রুপের মধ্যে। এতে উভয় গ্রুপের আহতরা হলেন, সাবেক মেয়র প্রার্থী ফারুক আহমদ, ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, রিপন আহমদ, ওমর ফারুক, সাদেক হোসেন, ইমরান রাজা, হোসেন আহমদ, মাসুম আহমদ, পারভেজ, রাব্বি, সৌরভ রায় প্রমূখ। এদের মধ্যে কয়েকজন শরীরের নানা স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা প্রতেকেই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পৌর যুবলীগ সভাপতি আব্দুস ছালাম জকিগঞ্জ বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপর হামলা করে ফারুক আহমদের বহিরাগত লোকজন।কলেজ ছাত্রলীগ প্রতিবাদ করলে আমাদের অনেককেই তারা মারধর করে। আমরা প্রতিবাদ মিছিল-সভা করেছি। অনতিবিলম্বে ফারুক আহমদসহ জড়িতদের আটক করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। ফারুক আহমদ জকিগঞ্জ বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, জঙ্গি বিরোধী মিছিল করতে চেয়েছিল ছাত্রলীগ। কিন্তু কলেজের শিক্ষকসহ কিছু শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। পরে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আমাকেও আহত করেছে প্রতিপক্ষরা।
কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মল্লিকা দেব জকিগঞ্জ বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বহিরাগত কয়েকজন আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ও কলেজের কিছু জানালার গ্লাস ভাংচুর করেছে। প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ৪দিন কলেজ বন্ধ থাকবে। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
মূলত ফারুক আহমদের গ্রুপের একজন ফেসবুকে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আহসানুল হককে শিবিরের লোক বলে একটি পোষ্ট দেন। সেই থেকে কলেজ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়। শনিবার বিকেলে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দিতে থানায় যান ঐ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আহসানুল হক জকিগঞ্জ বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমাদের নিয়ে কিছু হয়নি। যিনি আমাকে নিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছিলেন, তিনি ভূল বুঝতে পেরে তা ডিলিট দিয়েছেন। আজ বহিরাগত কিছু ব্যক্তি মিলে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ও ভাংচুর করা হয়। ওসি মো: সফিকুর রহমান খান জকিগঞ্জ বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। তবুও্ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একটি ছেলে ফেসবুকে একজন শিক্ষককে নিয়ে পোষ্ট দেয়। সেই থেকে বিরোধ। উভয় পক্ষ সংযত আচরণ করা উচিত। সংঘর্ষের ব্যাপারে মামলা দিলে নেওয়া হবে।

