বর্ণিল সাজে প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী-রাজধানী
প্রকাশিত হয়েছে : ১:১৮:০৭,অপরাহ্ন ২১ অক্টোবর ২০১৬ | সংবাদটি ৬৭০ বার পঠিত
‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’ স্লোগান সামনে শনিবার সকালে বসবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এখন উৎসবের সাজ। নানা রঙের কাপড়ে সাজানো হয়েছে মঞ্চ ও প্যান্ডেল। তাতে ঝুলছে বাতির মালা। সন্ধ্যা নামতেই উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় জ্বলে উঠছে লাল-নীল মরিচ বাতি। রঙিন আলোর উৎসব বসে তখন উদ্যানজুড়ে।
এই আলোর উৎসব উদ্যান ছাড়িয়ে পুরো রাজধানীতেই। বিমানবন্দর সড়ক কি মতিঝিল, বিজয় সরণি কি মিরপুর, রাসেল স্কয়ার কিংবা যাত্রাবাড়ি- সবখানেই এই আলোর রোশনাই। সেখানে আছে আলোর জাতীয় পতাকা, নৌকা ও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাতই মার্চের তেজোদীপ্ত অঙ্গুলি নির্দেশের প্রতিকৃতি।
সারা দেশ থেকে আসা ডেলিগেট ও কাউন্সিলরদের স্বাগত জানাতে রাজধানীর প্রবেশপথ- সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী, আবদুল্লাপুরে বসেছে বিশাল তোরণ, সন্ধ্যায় জ্বলে উঠছে সেগুলোও।
রাজধানীর যে সড়ক ধরেই যাওয়া হোক, সড়ক বিভাজক, কিংবা সড়কদ্বীপ, ফুটওভারব্রিজ কিংবা সড়কের পাশে ফুটপাতে চোখে পড়বে আলোকমালা আর সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে টানানো ব্যানার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত বর্ণিল পোস্টার-ব্যানার।
এক দিন বাদে শনিবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল শুরু হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। দুই দিনের এই কাউন্সিল উৎসবমুখর করে তুলতে কয়েক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এরই একটি অংশ ছিল সোহরাওয়ার্দীসহ রাজধানীকে সাজিয়ে তোলা। সেই প্রস্তুতি প্রায় শেষ। মঞ্চ প্রস্তুত সম্মেলনের অপেক্ষায়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলন স্থলে ঘুরে দেখা যায়, সেখানে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। যদিও সম্মেলন শুরুর আরো এক দিন বাকি, কিন্তু রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের পদচারণে মুখর সম্মেলনস্থল। অবশ্য বিকেল থেকে সোহরাওয়ার্দীতে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সম্মেলনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়া আর কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ পাশে শোভা পাচ্ছে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা আকৃতির ১৫০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চ। দুই স্তরের মঞ্চের ওপরের স্তরে বসবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা। নিচের স্তরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঞ্চের সামনের অংশে বিদেশি অতিথিদের বসার স্থান করা হয়েছে। এর পেছনেই অতিথি, কাউন্সিলর ও পর্যবেক্ষক মিলে ২০ হাজার লোকের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঞ্চের পেছনে সভাপতি শেখ হাসিনার বিশ্রামের জন্য বিশ্রামকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। বিদেশি অতিথিদের জন্যও মঞ্চের পেছনে আলাদা বিশ্রামকক্ষ ও শৌচাগার করা হয়েছে।
নৌকাসাদৃশ্য বিশাল মঞ্চের দুই পাশে আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের দলীয় পতাকা উড়ানোর জন্য ৭৮টি স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান সম্মেলনের উদ্বোধনের পর ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার পতাকাও উড়ানো হবে।
সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সুচারুরূপে কাজ করে যাচ্ছি।’
নানক বলেন, ‘আমাদের সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষের পথে। সম্মেলন ঘিরে ইতিমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সবার মাঝে।’ সবার সহযোগিতায় সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলেও আশা করেন তিনি।
সম্মেলনস্থলে প্রবেশের বিষয়ে নানক বলেন, শিখা চিরন্তনীর গেট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিরা প্রবেশ করবেন। বিদেশি অতিথিরাও এই ফটকটি ব্যবহার করবেন। চারুকলার সামনের ছবির হাটের ফটক, টিএসসি ফটক, বাংলা একাডেমির সামনের ফটক, তিন নেতার মাজারসংলগ্ন ফটক দিয়ে কাউন্সিলর ও পর্যবেক্ষকরা ঢুকবেন।
মঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় স্থাপিত ২৮টি এলইডি পর্দায় জাতীয় সম্মেলনের অনুষ্ঠান প্রদর্শিত হবে এবং পুরো সোহরাওয়ার্দী এলাকা ফ্রি ওয়াইফাইয়ের আওতায় রাখা হয়েছে।
মঞ্চের বাম পাশে করা হয়েছে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। বাংলা একাডেমির ফটকের ভেতরে সিআরআই, বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের স্টল করা হয়েছে।

