মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক, মানববন্ধনে বক্তারা
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:২৫:৩৭,অপরাহ্ন ০২ মে ২০১৯ | সংবাদটি ৩৫৯ বার পঠিত

ম.জ.ছালেহীন: শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ও সরকারী শিক্ষক- কর্মচারীদের ন্যায় বেসরকারী শিক্ষক- কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাড়ি ভাড়া প্রদান এবং অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ১০ শতাংশ কর্তনের আদেশের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে সারাদেশের ন্যায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) সিলেট জেলা শাখা। গত মঙ্গলবার (৩০শে এপ্রিল) সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি মহিউদ্দিন হায়দারের সাবলীল সঞ্চালনায় সিলেট কোর্ট পয়েন্টে দুপুর ১২টা থেকে প্রায় ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বেসরকারী শিক্ষক- কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ। সরকার যখন এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল তখন কিছু সুবিধাভোগী শিক্ষক নেতা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ফেলে বেসরকারী শিক্ষক- কর্মচারীদের বেতন থেকে ১০ শতাংশ কর্তনের জন্য পৃথক দু’টি অযৌক্তিক ও অমানবিক গেজেট প্রকাশ করায়। যা পরবর্তী সময়ে শিক্ষক-কর্মচারী দের আন্দোলনের ফলে স্থগিত করা হয়। বক্তারা আরো বলেন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দের ১৭ই ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন পূর্বে ১০ শতাংশ কর্তনের জন্য পুনরায় একটি আদেশ জারি করেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক-কর্মচারী দের প্রতিবাদে শিক্ষা সচিব ভুল স্বীকার করে উক্ত আদেশটিও প্রত্যাহার করে নেন। এরপর গত ৯ই জানুয়ারি ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দে অবসর সুবিধা বোর্ডের সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন না করার অভিমত পূনর্ব্যক্ত করেন তিনি। কিন্তু, গত ১৫ই এপ্রিল শিক্ষক সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিদের সাথে কোনোরূপ আলোচনা ছাড়াই অতিরিক্ত ৪ শতাংশ সহ মোট ১০ শতাংশ কর্তনের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিত আদেশ প্রদান করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ২৫ই এপ্রিল উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে এবং ৩০ এপ্রিল জেলা সদর ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপরও যদি তাদের দাবি মেনে নেয়া না হয় তাহলে একটানা ধর্মঘট ও আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা। তারই ধারাবাহিকতায় ৩০শে এপ্রিল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন
সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক রাজু, জ্যৈষ্ঠ সহ সভাপতি ও সিরাজ উদ্দিন আহমদ একাডেমির প্রধান শিক্ষক বেলাল আহমদ, সহ সভাপতি ও গণিপুর কামালগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আজির উদ্দিন, জকিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও জকিগঞ্জের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম, জকিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কল্যাণ ট্রাষ্টের সভাপতি ও সোনাসার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমদুল কবির, শাহী ঈদগাহ টিভি গেইট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা কুতুব আলম, বলদী আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা কামাল, ফরিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির জ্যৈষ্ঠ সহ সভাপতি মো. মিছবাউর রহমান, আলহাজ্ব তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার চৌধুরী, কানাইঘাট বশির মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফ উদ্দিন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুক্তা, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, দৈনিক সিলেট প্রতিনিধি এম এ লেইছ সহ জেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধানগণ, অগণিত শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে সিলেট জেলা পরিষদের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের নিকট প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলার সকল শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
