মেজরটিলা থেকে ভূয়া সিআইডি’র এসপিকে আটক করেছে সিআইডি
প্রকাশিত হয়েছে : ১:০২:২১,অপরাহ্ন ০৪ মার্চ ২০১৯ | সংবাদটি ৬৪৩ বার পঠিত
আব্দুল হালিম সাগর : সিলেটের মেজরটিলা থেকে ভূয়া সিআইডি’র এসপিকে আটক করেছে সিলেট সিআইডি’র একটি দল। প্রতারক ভূয়া এসপির নাম চিন্তাহরণ উরফে শান্ত বিশ্বাস, তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার নিশ্চিন্তপুর এলাকার তলপাড়া গ্রামে। সে ঐ গ্রামের মহেন্দ্র বিশ্বাস ও ফুলমালা রানী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি সনাতন (হিন্দু) ধর্মালম্বী হলেও সবার কাছে পরিচয় দিতেন মুসলমান হিসাবে। বাসায় রেখে ছিলেন নামাজ পড়ার জন্য জায়নামাজও। লেখাপড়ার গন্ডি থেমন একটা পেরোতে না পারলেও এলাকায় বিরাট সিআইডি অফিসার হিসাবে পরিচিত তিনি। সবাইকে বলতেন তিনি সিলেট সিআইডি অফিসে কর্মরত আছেন।
জানা যায়, সিলেট শহরতলীর মেজরটিলাস্থ আব্দুল্লাপুর এলাকার ৪নং প্রত্যাশা বাসাটি ভাড়া নেয় শান্ত। সেখানে নিজেই খোলে বসেন সিআইডির কার্যালয়। অবশ্য তিনি এর আগে নগরীর টিলাগড় এলাকার বটেরতলে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখানে তার প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়লে তিনি বাসা বদল করে মেজরটিলায় চলে যান। তিনি বিভিন্ন জনকে ভিন্ন পরিচয় দিতেন, তার বাসায় ছিলো অপরিচিত পুরুষ মহিলাদের অবাধ যাতায়াত। সিআইডি অফিসে লোকজন আসা যাওয়া নিয়ে কেউই ভয়ে কথা বলতেন না। নিজে ঘুরে বেড়াতেন ভাড়া করা সাদা মাইক্রোবাস করে। টার্গেট টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকার সুন্দরী শিক্ষিত নারীদের চাকুরির দেওয়া, বদলী করার কথা বলে টাকা পয়সা নিয়ে টুপে ফেলে সর্বনাশ করা। বিভিন্ন মামলা আর চাকুরীর ও তদবিরের কথা বলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতেন তিনি। প্রতারক শান্ত কখনো নিজেকে সিআইডি’র এএসপি আবার এসপি পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতো। তবে সে কখনো নিজেকে সিলেটের এডিসি / ম্যাজিষ্টেট,সেনাবাহিনীর মেজর / কর্ণেল, পরিচয়ে সিলেট বিভাগে তার প্রতারণার জাল বিস্তার করতো। সে নিজেকে সিআইডির এসপি পরিচয় দিলেও এসপি অফিস্থ সিআইডি অফিসের আশপাশে কখনো থাকে দেখা যায়নি। নিজের বাসায় বানিয়ে ছিলেন সিআইডি অফিস। সম্প্রতি জনৈক ব্যক্তি প্রতারক ভূয়া এসপি শান্তকে খোঁজতে সিলেট সিআইডি অফিসে আসলে ধরাপড়ে তার আল পরিচয়। তখনই ভূয়া এসপিকে ধরতে ফাঁদ পাতেন আসল সিআইডি’র দল।
রবিবার রাত অনুমান ৮টার দিকে খবর আসে প্রতারক শান্ত চাকুরী দেওয়ার গোপন মিটিং করছে নিজের অফিসে। তখনই সিআইডির বিশেষ টিম কথিত সিআইডির এই ভূয়া এসপিকে আটক করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিআইডি অফিসের এসআই রিপন কুমার দে, তুহেল আহমদ চৌধুরী। আটকের পর প্রতারক শান্ত স্বীকার করে প্রতারণা করে বিভিন্ন লোকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা আর দেহের বিনিময়ে সুন্দরী মেয়েদের চাকুরী দেবার কথা বলে বেশ কয়েকটি মেয়ের ইজ্জত নষ্ট করেছে। এ সময় তার বাসা তল্লাসী চালিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক চাকুরী প্রার্থীর সিভি/বায়োডাটা ছবি উদ্ধার করে সিআইডি। পরে সিআইডির এসআই রিপন কুমার দে বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যাহার নং ৩ (৩)২০১৯ ইং। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রতারক সিআইডির ভূয়া এসপিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে তাকে রিমান্ডে আনা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডি অফিস সূত্র।

