রাখাইনে এখনো চলছে রোহিঙ্গা গণহত্যা: জাতিসংঘ
প্রকাশিত হয়েছে : ৬:২২:০৮,অপরাহ্ন ২৫ অক্টোবর ২০১৮ | সংবাদটি ৫১৪ বার পঠিত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনী এখনো গণহত্যা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটির অনুসন্ধানকারীরা বলছেন, বর্মি সরকার প্রতিনিয়ত বুঝিয়ে দিচ্ছে তারা দেশে একটি পরিপূর্ণভাবে কার্যকর গণতন্ত্র চায় না।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান জানান, হাজারো রোহিঙ্গা এখনো প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসছে। আড়াই লাখ থেকে ৪ লাখের মতো রোহিঙ্গা, যারা গত বছর শুরু হওয়া সেনা অভিযানের পরও এখনো রাখাইনে রয়ে গেছে, তাদের ওপর চলছে সবচেয়ে বেশি দমনপীড়ন।
‘এটি একটি চলমান গণহত্যা,’ বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন তিনি।
দারুসমান বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মিলে জাতীয় সার্বভৌমত্বের নামে যে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে তা গণহত্যার শামিল। এভাবে তা চলতে দেয়া যায় না।
লি অভিযোগ করেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি পুরোপুরি অস্বীকার করে যাচ্ছেন।
‘সরকার প্রতিনিয়ত আরও বেশি করে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, মিয়ানমারে সবাই নিজ নিজ অধিকার ও স্বাধীনতা সমানভাবে ভোগ করবে, এমন একটি পরিপূর্ণভাবে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাদের কোনো আগ্রহ বা সামর্থ্য নেই,’ বলেন লি, ‘সরকার ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখছে না। যদিও সু চি উল্টোটা বলছেন।’
এমনটাই যদি হতো, তাহলে নিরপেক্ষভাবে আইন সবার জন্য সমান হতো, বিচারহীনতা রাজত্ব করতে পারত না। ‘আইনকে নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো না,’ বলেন তিনি।
একটি সুস্থ পরিবেশ ও নিরাপদ জীবন যাপনের নিশ্চয়তা ছাড়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াটা কঠিন, মন্তব্য করে মারজুকি দারুসমান বলেন, যদি তাদের ওপর আর কোনো ধরনের অত্যাচার না করা হয় তবেই তারা সেখানে ফিরে যাবার আশা করতে পারে।
গত বছরের অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের অভিযোগ তোলে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের একটি সমঝোতা হলেও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি।
জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থার কর্মীদের বক্তব্য, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। এক্ষেত্রে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলেও বলেছেন কর্মকর্তারা।

