লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
প্রকাশিত হয়েছে : ১:১০:১৩,অপরাহ্ন ০১ জুন ২০১৯ | সংবাদটি ৩৯১ বার পঠিত
‘নিশ্চয়ই আমি এ কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। হে নবী! আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদরের মর্যাদা কত বেশি? লাইলাতুল কদরের এক রাত হাজার মাসের চেয়েও বেশি মর্যাদাম-িত। এ রাতে ফেরেশতাকুল এবং পবিত্র রহু (জিবরাইল) নাজিল হয় তাদের প্রভুর নির্দেশ নিয়ে। সে রাতে ফজর পর্যন্ত অনাবিল শান্তি ও কল্যাণ বিরাজ করে।’ (সূরা কদর : ১-৫)।
পবিত্র রজনি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে কোরআনে পূর্ণ একটি সূরা নাজিল হয়েছে। হাদিসের কিতাবে প্রায় অর্ধশতেরও বেশি সহিহ হাদিস এসেছে এ রাতের ফজিলতও আমল সম্পর্কে। এ রাতটি পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ রাতকে পাওয়ার জন্যই ইতিকাফের বিধান। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতে মশগুল থাকবে, তার আগের জীবনের সব গোনাহ আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেবেন।’ (বোখারি : ১৭৬৮, মুসলিম : ১৮১৭)। এ রাতের অশেষ ফজিলত থেকে যেন উম্মত বেখবর না থাকে; তাই হুজুর (সা.) নিজে ইবাদত করে উম্মতকে শিখিয়েছেন, তোমাদেরও উচিত এ বরকতপূর্ণ রাত থেকে পেয়ালা ভরে বরকতের মধু পান করা। আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশকে তাঁর ইবাদতের মাত্রা বাড়িয়ে দিতেন। এ সময়ে তিনি এত বেশি ইবাদতে মগ্ন থাকতেন যে, আর কখনও এভাবে কোমর বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতে তাঁকে দেখা যায়নি।’ (বোখারি : ২৮৪৫, তিরমিজি : ৭৬৯)। অন্য বর্ণনায় আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রমজানের শেষ দশকে রাসুল (সা.) কোমর বেঁধে ইবাদত করতেন। তিনি নিজে রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং তাঁর পরিবারের লোকজনদেরও জাগিয়ে তুলতেন।’ (বোখারি : ১৮৮৪, মুসলিম : ২৮৪৪)।
বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, মাহে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর হয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)সহ সুন্নিয়াতের বড় একদল আলেম খুব দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে মনে করেন, ২৭ তারিখ দিবাগত রাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তারা এ-ও বলেছেন, অন্য রাতেও লাইলাতুল কদর হতে পারে। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে জানানো হয়েছিল লাইলাতুল কদর কবে? কখন?। আমি তোমাদের বলতে আসব এমন সময় দেখি দুজন ঝগড়া করছে। আর আমাকে লাইলাতুল কদরের সঠিক তারিখটি ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ এ হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসরা বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা কল্যাণ মনে করেছেন; তাই লাইলাতুল কদরের রাত গোপন রেখেছেন। অনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এতে শেষ দশকের প্রতি বেজাড় রাতেই ইবাদত করার সুযোগ রয়ে গেল। যদি একটি নির্দিষ্ট রাত লাইলাতুল কদর হতো; তবে কোনোক্রমে ওই রাতে ইবাদত মিস হয়ে গেলে আফসোসের সীমা থাকত না। শুকরিয়া এখন আর সে আফসোসে পড়তে হচ্ছে না উম্মতে মুহাম্মদিকে। (তাফসিরে মাজহারি)।
তাফসিরে তাবারিতে ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, লাইলাতুল কদর উম্মতে মুহাম্মদির জন্য অনেকটা বোনাসের মতো। অবারিত সুযোগও বলা যায়। সাহাবিরা ভাবতেন, আগের উম্মতেরা দীর্ঘ হায়াত পেত। বেশি বেশি ইবাদত করে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করত। আমাদের এ অল্প হায়াতে আমরা কীভাবে এত বেশি ইবাদত করব? কীভাবে আল্লাহর সন্তোষ হাসিল করব? সাহাবায়ে কেরামদের এসব চিন্তার কারণেই আল্লাহ তায়ালা জিবরাইল (আ.) এর মাধ্যমে সূরা কদর নাজিল করেন। আল্লাহ তায়ালা বলে দেন, এই একরাত ইবাদত করলে তোমাদের জীবনের গোনাহ তো ক্ষমা হবেই, একই সঙ্গে হাজার মাসের চেয়েও বেশি ইবাদতের সওয়াব তোমাদের আমলনামায় লেখা হয়ে যাবে। (তাফসিরে তাবারি)।
আমরা অবশ্যই লাইলাতুল কদরের বরকত হাসিলের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব। নিজেরা রাত জেগে ইবাদত করব। স্ত্রী-সন্তানদেরও ইবাদত করতে উৎসাহ দেব। এ রাতে বেশি বেশি এই দোয়া পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুল (সা.)। আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাআফু আন্নি। অর্থÑ হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। আমাকে ক্ষমা করুন। (বোখারি)।
