স্মৃতিতে বারহালের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির চৌধুরীর দাদা ওয়াতির আলী চৌধুরী কুটু মিয়া
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:১০:২১,অপরাহ্ন ০৮ আগস্ট ২০১৯ | সংবাদটি ৪৬৩ বার পঠিত

এখলাছুর রহমান
যুগে যুগে এই পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ বসবাস করে চলে গেছেন পরপারে। তাদের মধ্যে কেহ তার কৃতকর্মের জন্য মানুষের হৃদয় জয় করে অমর হয়ে আছেন আবার কেহ সময়ের গতিতে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন অজানার দেশে। যারা চলে গিয়ে মানুষের হৃদয়ে ঠাই নিয়ে রয়ে গেছেন তাদের মধ্যে কেহ বিশ্বের ইতিহাসে স্থান পেয়েছেন আর কেহ তার কৃতকর্মের জন্য সঠিক পথের পথপ্রদর্শক হয়ে আছেন আপন জনের হৃদয়ে। তেমনী এক সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী, সালিশ ব্যক্তিত্ব ও সত্য পথের পথপ্রদর্শক ছিলেন সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার ১ নং বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রামের মরহুম হাজী ওয়াতির আলী চৌধুরী কুটু মিয়া। তার জীবন যৌবন কাটে মানুষের কল্যানে, নিজেকে নিয়ে যতটা ভাবতেন তার চেয়ে বেশি ভাবতেন সমাজ ও দেশ নিয়ে। তিনি একজন ন্যায় বিচারক ( সালিশ ব্যক্তিত্ব) ছিলেন বলে শুধু স্থানীয়রা নয় দূর দূরান্ত থেকে ও মানুষ সঠিক বিচার পাওয়ার আশায় ছুটে আসতেন উনার কাছে। এক সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে উনার উপর নেক ছায়া ছিল বলেই ন্যায় নীতি মেনে বিচার করে সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারতেন তিনি। উনার প্রভাবশালী কর্মকান্ডের একটি স্মৃতি আজও মনে পড়ে। আমি যখন ৭ম শ্রেনির ছাত্র ছিলাম তখন শাহগলি বাসষ্ট্যান্ডে মরহুম ইছরাক আলীর চায়ের হোটেলের সামনে পুলিশ ২-৩ জন লোককে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন দেখে তিনি উচ্চ কন্ঠে আওয়াজ করেন কে ওদের ধরে নিয়ে যায়। উনার কথা শুনে পুলিশ বুঝতে পারে উনি খুব সম্মানি ও এলাকার বিশ্বস্থ লোক। তাই পুলিশ উনার কথা রাখতে ওদের ছেড়ে দেয়। এর আগে পুলিশের কাছে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনেকে সুপারিশ করলেও পুলিশ কারো কথায় কর্নপাত করেনি। আসলে সম্মানী লোককে আল্লাহ সব জায়গায় সম্মান দেন। নিজ আদর্শে হাজার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিলেও ১৯৮৪ সালের ২ অক্টোবর তিনি সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
উনার আদর্শ ও ন্যায়পরায়ণতা ধরে রাখতে জনসেবাকে হৃদয়ে আকড়ে ধরেন তারই সুযোগ্য নাতি বারহাল ইউনিয়নের সুযোগ্য সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম জাকির আহমদ চৌধুরী। তিনি দীর্ঘ নয় বছর চেয়ারম্যান থেকে দেশ ও দশের কল্যানে কাজ করে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ সবাইকে কাদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। মরহুম হাজী ওয়াতির আলী চৌধুরী সাহেবের তিন ছেলে ও সাত মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ে এখনো জীবিত আছেন। উনার নাতনী জামাই বালাগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাবেক এম পি জনাব মকসুদ ইবনে আজিজ লামা লন্ডনে বসবাস করলেও উনার স্থায়ি বাসভবন সিলেটের শেখঘাট। পারিবারিক ঐতিহ্য ও আদর্শকে লালন করে উনার নাতি হাসান চৌধুরী প্রতিষ্টা করেন ” মরহুম লুৎফুর রহমান চৌধুরী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ” । শিক্ষার উন্নয়নে কথা চিন্তা করে প্রতিষ্টিত ট্রাষ্টের প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান হলেন হাসান চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান হলেন হাজী ওয়াতির আলীর সুযোগ্য বড় নাতনী আসমা বেগম চৌধুরী। আসমা বেগম চৌধুরী অত্যন্ত মেধাবী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও দুঃখি মানুষের বন্ধু। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে দাদার মত আদর্শ নিয়ে সমাজ ও দেশের তরে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলস ভাবে। উনার সহযোগিতামূলক কর্মকান্ডে উপকৃত হোক হাজার হাজার দুঃখি পরিবার। আল্লাহ উনাদের ইহকাল ও পরকাল মঙ্গলময় করুক। আমিন।
