গুরুত্বপূর্ণ সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট
প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৩৮:৩৬,অপরাহ্ন ১৪ অক্টোবর ২০১৬ | সংবাদটি ৫৭৫ বার পঠিত
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং বাংলাদেশে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শুক্রবার ঢাকা আসছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির নেতার এ সফরকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সৃষ্টির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর পর তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
প্রায় তিন দশক পর চীনা কোনো প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসছেন। শি জিন পিংকে বরণে যাবতীয় প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। তাঁর সফরের প্রক্কালে একে ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলে অভিহিত করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অপরদিকে এই সফরে সম্ভাব্য ২৫টিরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক দুই হতে পারে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, চীনা প্রেসিডেন্টের সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানাবেন। চীনের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশ আকাশ সীমায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটি জেট তাঁর বিমানটিকে এসকর্ট করে নিয়ে আসবে। তাঁকে এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ বিমানটি শুক্রবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
বিমান বন্দরে পৌঁছলে ২১ বার তোপধ্বনির পর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল চীনের প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার দেবে। চীনের প্রেসিডেন্ট ডায়াস থেকে সালাম গ্রহণ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে সঙ্গে নিয়ে গার্ড পরিদর্শন করবেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে চীনা প্রেসিডেন্টকে হোটেল লা মেরিডিয়ানে নিয়ে যাওয়া হবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং আগামীকাল বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে দুই নেতা কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বক্ষর করবেন।
এর পর বিকেল ৫টায় চীনা রাষ্ট্রপতি বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে হোটেল লা মেরিডিয়ানে বৈঠক করবেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন। এর আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিকেল ৪টায় হোটেল লা মেরিডিয়ানে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
চীনা প্রেসিডেন্ট জিন পিংয়ের ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। জিন পিং শনিবার সকাল ১০টায় ভারতের গোয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বন্দরে তাঁকে বিদায় জানাবেন।
চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকালে তাঁর ১৩ সদস্যের সফরসঙ্গীর পাশাপাশি ৩৩ সদস্যের সরকারি কর্মকর্তা এবং ৩৪ সদস্যের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও মিডিয়াকর্মী থাকছেন।
বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, ১৯৮৬ সালের মার্চ মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট লি জিয়ান নিয়ানের বাংলাদেশ সফরের দীর্ঘ তিন দশক পর কোনো চীনা প্রেসিডেন্ট এই প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসছেন।
শি জিন পিংয়ের সফর সঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল কমিটির পলিট ব্যুারোর (সিসিসিপিসি) ওয়াং হুনিং, সিসিসিপিসির সদস্য সচিবলী জানশু, স্টেট কাউন্সিলর ইয়াং জিয়েছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং জি, জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনমন্ত্রী (এনডিআরসি) জু শাওসি, অর্থমন্ত্রী লো জিয়েই, বাণিজ্যমন্ত্রী হু চেং, চীনের পিপলস ব্যাংকের গভর্নর ঝো জিয়াওচুয়ান, আর্থিক ও অর্থনীতিবিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক লিউ হে, সিসিপিসির জেনারেল কার্যালয়ের নির্বাহী উপপ্রধান ডিং জুজিয়াং, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিগকিয়াং, সিসিসিপিসির জেনারেল কার্যালয়ের উপপ্রধান ওয়াং শাওজুন এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কং জুয়ানইউ।

