রাসূলে পাক (সা.) এর মহব্বতই ঈমানের পূর্ব শর্ত—–শায়েখ সাইয়্যিদ হাবীব উমর আল হাবশী
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৩৮:১৬,অপরাহ্ন ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬ | সংবাদটি ১৪৫৫ বার পঠিত
সংবাদ দাতাঃ বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ, শান্তির দিশারী, রাহমাতুল লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগমনবার্ষিকী পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী উপলক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পতাকাবাহী সংগঠন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের দেশব্যপী কর্মসুচির অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল কাউন্সিলের উদ্যোগে লন্ডনের স্থানীয় একটি হলে গত ১১ ডিসেম্বর রবিবার আয়োজন করেছে এক গ্রান্ড কনফারেন্সের।আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের প্রেসিডেন্ট আল্লামা হাফিজ আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গ্রান্ড কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা.) এর ৩৯তম বংশধর, সৌদী আরবের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন শায়েখ সাইয়্যিদ হাবীব উমর আল হাবশী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ‘র প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী।
আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরব আমিরাতের সাবেক বিচারপতি ও বাংরাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সাবেক সভাপতি শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা হবিবুর রহমান, হযরত আল্লামা মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী, করিমিয়া ইন্সটিটিউট এর চিফ এক্সিকিউটিভ শায়েখ ড. মুশাররফ হুসাইন ওবিই, মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটির লেকচারার শায়েখ মুহাম্মদ গামাল আবদেল নূর প্রমুখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে শায়েখ সাইয়্যিদ হাবিব উমর আল হাবশী বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ভালবাসা লাভের জন্য তাঁর হাবীব (সা.) কে ভালবাসতে হয়। আর রাসূলে পাক (সা.) এর মহব্বতই ঈমান পরিপূর্ণ হওয়ার পূর্বশর্ত। আল্লাহর রাসূলের মহব্বত লাভ এবং প্রকাশের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল। তিনি বলেন, হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) তাঁর অনুসারীদের অন্তরে আল্লাহর রাসূল (সা.) এবং তাঁর আহলে বাইতের মুহাব্বত সৃষ্টি করে দিয়ে গেছেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, বিশ্বনবী (সা.) হলেন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় রহমত ও অনুগ্রহ। আর আল্লাহর রহমত ও করুণাপ্রাপ্তির শুকরিয়া স্বরূপ খুশি উদযাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে কুরআনে কারীমে। এরই জন্য যুগ যুগ ধরে সত্যপন্থী উলামায়ে কিরাম আয়োজন করে আসছেন ঈদে মীলাদুন্নবীর। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূলের প্রতি যাদের মুহ্ব¦ত আছে তারাই আল্লাহর রাসূলের পরিপূর্ণ অনুসরণ করে। আজ আইএসআইএস নাম দিয়ে যারা নির্বিচারে মুসলিম-অমুসলিমদেরকে হত্যা করে যাচ্ছে এরা খারেজীদের উত্তরসূরি, এরা প্রকৃত মুসলমান নয়। তিনি বলেন, ইয়াযিদপন্থী নামধারী মুসলনমানেরা যুগে যুগে ইসলামের ক্ষতি করেছে। এদের থেকে সাবধান থাকা এবং সাধারণ মুসলমানগণকে এদের চক্রান্ত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই গঠন করা হয়েছে আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে।হাফিজ আনহার আহমদের কুরআন তেলাওত এবং কারী আবদুল মুহিতের নাশিদ পরিবেশনের মাধ্যমে সূচিত মাহফিলে গুরুত্বপূর্ন আলোচনা পেশ করেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্রিকলেন জামে মসজিদের খতীব হযরত মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা মুফতী ইলিয়াস হোসাইন, মাওলানা মুফতী আশরাফুর রহমান, মাওলানা সাদ উদ্দীন সিদ্দিকী, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, মাওলানা আবদুল মালিক, মাওলানা সালমান আহমদ চৌধুরী, মাওলানা আবদুল কাহহার, মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী, হাফিজ কয়েছুজ্জামান, মাওলানা আবদুর রহমান নিজামী, মাওলানা এমএ কাদির আল হাসান, মাওলানা আবদুল মতিন, মাওলানা হাফিজ হেলাল উদ্দিন, হাফিজ আবদুশ শহিদ, মাওলানা খায়রুল হুদা খান, মাওলানা মারুফ আহমদ প্রমুখ।
গ্রান্ড ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) কনফারেন্স উপলক্ষে রাসূলে পাক (সা.) এর উপর দশ মিলিয়ন দুরুদ পাঠের উদ্যোগ নেওয়া হলে এতে ব্যাপক সাড়া মিলে এবং বারো মিলিয়ন এর বেশি দুরুদ পাঠের রিপোর্ট পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যারা এই মহতী উদ্যোগে শরীক হয়েছেন, আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। গ্রান্ড কনফারেন্সে ইউকের বিভিন্ন শহর থেকে আনজুমানে আল ইসলাহর নেতা-কর্মী, উলামায়ে কিরামসহ সহস্্রাধিক নবী প্রেমিক মুসলিম জনতা উপস্থিত হন।
কনফারেন্স শেষে মীলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং বার্মা, সিরিয়াসহ বিশ্ব মুসলিমের শান্তি, মুক্তি ও সমৃদ্ধি এবং মরহুম উম্মতে মুহাম্মদীর মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দু‘আ পরিচালনা করেন রাসূলে পাক (সা.) এর ৩৯তম বংশধর, সৌদী আরবের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ শায়েখ হাবীব উমর আল হাবশী।
