সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিদায়-
প্রকাশিত হয়েছে : ২:০৭:৫৬,অপরাহ্ন ১৫ জুলাই ২০১৯ | সংবাদটি ৩৬৮ বার পঠিত

মাহমুদুর রহমান
যারা রাজনীতি করেন তাদের অনেকেই এরশাদের উপর গোস্বা। আবার অনেকেই তাঁর ভক্ত-অনুরক্ত। প্রশংসা সমালোচনা সবই রয়েছে রাজনীতিক হিসেবে মরহুম প্রেসিডেন্ট এরশাদের বিশ্বের অন্য সব রাজনীতিকের মতো। প্রেসিডেন্ট এরশাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল ক্ষমতায় আসার বিষয়টি নিয়ে এবং ১৯৮৬ ও ৮৮ এর নির্বাচন। ৯০ এর দশকের ছাত্রনেতারা আজও এরশাদের নাম শুনলে নেতিবাচক কথাবার্তা বলেন। আজকে সেই নেতারা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন কি এরশাদ হটিয়ে গণতন্ত্র কিংবা তাঁর চেয়ে ভালো শাসন পেয়েছেন?
ব্যক্তি এরশাদ ছিলেন ভিন্নমতের প্রতি উদার। সম্প্রতি জনাব Abu Rushd এর একটি কলাম পড়ে এরশাদের উদারতার অনেক ঘটনা জানতে পারি। আবু রুশদ এরশাদের রাজনীতির সমালোচনা করা সত্ত্বেও এরশাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছেন সব সময় যা আজকের বাস্তবতায় আকাশ-কুসুম কল্পনা। তারপর নিজের ছোটবেলার একটি ঘটনা মিলিয়ে এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যায়।
১৯৮৬ সাল। সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী
ব্রিগেডিয়ার এম. আর মজুমদার। প্রতিদ্বন্ধী এম. এ হক। ব্রিগেডিয়ার মজুমদারের পক্ষে বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেয়ার জন্য জকিগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট এরশাদ। জীবনে প্রথম স্বচক্ষে প্রেসিডেন্ট দেখার উৎসুক চোখ নিয়ে লাঙল.. লাঙল শ্লোগান দিতে দিতে হাজির হয়েছিলাম ঐ জনসভায়। ছিলাম মঞ্চের পাশে। যদিও তখন আমি ৬ ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। হঠাৎ পাশের রাস্তা দিয়ে হাতে গোনা কয়েকজন লোক ‘এরশাদ না এম. এ হক- এম. এ হক, এম. এ হক’ শ্লোগান দিতে দিতে চলে গেল। তৎকালীন সময়ের প্রচন্ড ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপতিকে অপমান!
বিদ্রোহী এই মিছিলের কয়েকজন লোকের পরিণতি কী হতে পারতো, আজ যখন চিন্তা করি তখন অবাক হই! কেউ খুন কিংবা গুম হননি। এজন্য জেলেও যেতে হয়নি। আজও অনেকেই বেঁচে আছেন। শিশুকালের একটি ঘটনার মর্মার্থ আজ পরিণত বয়সে যখন বিশ্নেষণ করি তখন প্রেসিডেন্ট এরশাদের মহত্ব ও উদারতাই খুঁজে পাই।
আল্লাহ তাঁর ভুলগুলো ক্ষমা করে ফুলেল জান্নাতে স্থান দিও।
জুলাই-১৪, ২০১৯
মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র।
