সুলতান মাহমুদ: উম্মাহ প্রেমিক একজন তরুণ আলেম
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:২৫:৩৬,অপরাহ্ন ১৩ জুলাই ২০১৯ | সংবাদটি ৩৭৬ বার পঠিত

মাজহারুল ইসলাম জয়নাল
ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্নালিল্লাহী রাজিউন।আজ ১২ জুলাই ২০১৯, না ফেরার দেশে চলে যাওয়া তরুণ একজন আলেম মাওলানা সুলতান মাহমুদ (হানিফগ্রাম,কসকনকপুর,জকিগঞ্জ।বন্দরবাজারের সুলতান মাহমুদ কম্পিউটার এর মালিক)।ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে জানাশোনা মোটামোটি এক যুগের কম হবে না।বয়সে তিনি আমার বড় ভাই ভাইয়ের সমান হলে ও তার সাথে সম্পর্কটা ছিলো বন্ধুত্বপূর্ণ। প্রথম থেকে শেষ প্রর্যন্ত সম্পর্কটা একমাত্র আল্লাহর জন্যই নিবেদিত ছিল।এইতো মনে হচ্ছে, আছর কিংবা মাগরিবের নামাজে সুন্দর লম্বা টুপি মাথায় দিয়ে তাকবীরে উলার সাথে জামাতে শরিক হওয়ার জন্য আগেভাগেই কুদরত উল্লাহ মসজিদে এসে হাজির। দেখা হলেই সালাম,কালাম পরেই ইসলামের মৌলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা প্রায়ই হতো।আজ একটি কথা খুব বেশি মনে হচ্ছে, তিনি বলতেন মাজহার তুমার লেখাপড়া সরকারী মাদরাসায় আর উটাবসা, ভালোবাসা সকল মসলকের আলিমগণদের সাথে ব্যাপার কি? আমি বলতাম ভাই উম্মাহ প্রেম। উম্মাহ প্রেম ছাড়া কখনো প্রকৃত মুসলমান হওয়া যায় না।শুধুমাত্র দল কিংবা মসলক প্রেম মানুষকে অন্ধ করে। দৃষ্টিভংগির উদারতা- প্রসারতা ছাড়া সমাজে শান্তি আসতে পারে না। তখন তিনি প্রায়ই বলতেন, ভাইরে আজ আমাদের মুসলিম ঐক্য, ভালোবাসা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলান্ধতার কারণে ধংসের পথে।উপরের কথাগুলো বলার অর্থ হলো তিনি একজন আপাদমস্তক উদারমনা উম্মাহ প্রেমিক তরুণ আলেম ছিলেন। আমাদের সিলেটের সকল শীর্ষ আলেমদের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিলো,ভালোবাসা ছিল।আজ প্রিয় ভাইয়ের জন্য দুয়া ছাড়া দেওয়ার আর কি আছে!আল্লাহ তাকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।উল্লেখ্য তিনি একজন নামাজি আল্লাহওয়ালা তরুণ যুবক ছিলেন। কথা বলার সময় তার মুখে সবসময় হাসির জলক ফুটে উঠতো।তিনি সর্বোপরি একজন সামাজিক ভালো মানুষ ছিলেন।অনেকে সুলতান ভাইয়ের প্রতি অধিক ভালোবাসার কারণে বলছেন,তিনি নাকি অসময়ে চলে গেলেন! আসলে মৃত্যুর কোন সময় নেই।তাই বলবো, তিনি তার নির্ধারিত সময়েই আল্লাহর দরবারে চলে গেলেন। আমাদের ও মৃত্যু অপেক্ষা করতেছে, তাই মৃত্যুর আগে আগে নিজেদের ঈমান ও আমলকে খাটি করে নেই।সুলতান ভাই,পরপারে ভালো থাকো, সুখে থাকো।আল্লাহ তায়ালা তার দয়াগুণে আপনার জীবনের সকল পাপাচার কে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন।আপনার আর আমার লিল্লাহিয়াত ভালোবাসা কে আল্লাহ যেন নাজাতের উসিলা হিসেবে কবুল করেন।আমিন।
