মালয়েশিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত এনাম : বাড়ীতে শোকের মাতম
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:২৬:৪৯,অপরাহ্ন ০৯ অক্টোবর ২০১৮ | সংবাদটি ২১৩৭ বার পঠিত
আলিম উদ্দিন, কানাইঘাট : মালয়েশিয়ায় সড়ক দূঘর্টনায় নিহত ৫ সন্তানের জনক দরিদ্র এনামের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম। একদিকে পিতাকে হারিয়ে অবুঝ সন্তানদের কান্না, অপরদিকে পাহাড় টিলার উপর দরিদ্র পিড়িত বাড়ীতে ক্ষুধা আর কষ্টের যন্ত্রনা। এ যেন আকাশ ভেঙ্গে মাতার উপর পড়ে যাওয়ার অবস্থা। কেউ কখনো বিশ্বাস করতে পারেনি এরকম একটি দূর্ঘটনার কবলে পড়ে তছনছ হয়ে যাবে এই দরিদ্র পরিবারটি। বাড়ীতে বাঁশ-বেতের ঘর, টিনের চাল, আর বাঁশের দরজাই প্রমাণ করে এই পরিবারটি কতটা অসহায়ের উপর বসবাস ও দিনাতিপাত করছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসাবে এনাম বাড়ীতে ইঞ্জিন নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। তার উপর নির্ভর করতো স্ত্রী সন্তান সহ ৭ জনের সংসার। অভাবের সংসারে এনামের রোজগার দিয়ে পরিবার চলতে গিয়ে তিন বেলা খাবার জোটতো না তার পরিবারে। এরই মধ্যে ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ার লটারী ভিসায় এনামের নাম উঠে যায়। এতে সে তার ভিট-বাড়ীর কিছু জায়গা ও ইঞ্জিন নৌকা বিক্রি করে চলে যায় মালয়েশিয়ায়। সেখানে একটি পাম ওয়েল কোম্পানীতে বাগান শ্রমিকের কাজ করতো এনাম।
মালয়েশিয়ায় ৩ বছর চাকুরী করে গত ৬ মাস পূর্বে বাড়ীতে ছুটিতে এসেছিল সে। ৩ মাস বাড়িতে থাকার পর আবার মালয়েশিয়ায় চলে গিয়ে পাম ওয়েল কোম্পানীতে কাজ শুরু করে এনাম। গত ৩ অক্টোবর বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় পাম ওয়েল কোম্পানীতে বাগানের ডিউটি শেষ করে বাসায় ফেরার পথে পাহাড়ী আকা-বাকা রাস্তায় মোটর সাইকেল এক্সিডেন্ট করে মর্মান্তিক ভাবে প্রান হারায় এনাম। খবর পেয়ে এনামের কোম্পানীর লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ডাক্তার’রা এনামকে মৃত ঘোষনা করেন। এরপর বাংলাদেশ দুতাবাসের মাধ্যমে গত ৭ অক্টোবর রবিবার সকালে এনামের লাশ গ্রহন করে তার পরিবার। ঐদিন বিকালে নিহতের আত্বীয়-স্বজনেরা পঞ্চায়েতী গোরস্থানে তার লাশ দাফন সম্পন্ন করে।
নিহত এনাম উদ্দিনের বাড়ী সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ১নং লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের কেউটি হাওড় গ্রামে। এনামের পিতার নাম- মরহুম আবু বক্কর, মাতার নাম- মরহুমা সোনাবান বিবি। এনামের আত্বীয়- স্বজন বলতে বাবা, মা, ভাই, বোন কেউই নেই। নিহত এনামের বিধবা স্ত্রী আমিনা বেগম সহ ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। নিহত এনামের সন্তানদের মধ্যে ১ম মেয়ে রেহা আক্তার (১৫) লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির সুরতুন্নেছা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরিক্ষার্থী, ২য় মেয়ে সুমানা আক্তার (১৩) লোহাজুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত, ৩য় মেয়ে রুমানা আক্তার (৯) সোনারখেয়ড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত, ৪র্থ সন্তান রুহিন আহমদ (৫) প্রতিবন্ধী, ৫ম সন্তান মুহিন আহমদ (২) মায়ের কোলে দুধের শিশু।
এদিকে কেউটি হাওড় গ্রামবাসী নিহত এনামের পরিবারকে আর্থিক সহযোগীতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংলিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন। এছাড়া মালয়েশিয়া সরকারের মাধ্যমে নিহত এনামের পাম ওয়েল কোম্পানীর বাগান পরিচালনা কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগীতা পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের সংলিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

